খালেদা জিয়াকে মুক্ত ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনাই বিএনপির লক্ষ্য -মির্জা ফখরুল

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:১০ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঠাকুরগাঁওয়ের খবর ডেস্ক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ‘দেশে ফিরিয়ে আনাই’ বিএনপির লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে সহিংস হামলার অষ্টম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় তিনি একথা বলেন।

ফখরুল বলেন, “আজকে আমাদের একটাই লক্ষ্য হওয়া উচিত দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবার জন্য যিনি গণতন্ত্রের পতাকা তার সমস্ত রাজনৈতিক জীবনে তুলে ধরেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যিনি নির্বাসিত হয়ে আছেন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।

“আমাদের ৩৫ লক্ষ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দূর করতে হবে, যারা কারাগারে আছেন তাদের বের করতে হবে। একটা মুক্ত স্বদেশ, মুক্ত বাংলাদেশ নির্মাণ করতে হবে। আসুন আমরা সবাই দল-মত-বর্ণ নির্বিশেষে সেই লক্ষ্যে কাজ করি।”

রামুতে হামলার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “রামুর ঘটনা আমার কাছে মনে হয় বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি তারই একটা প্রতিফলন। বাংলাদেশে এখন কোনো গণতন্ত্র নেই, সংবিধান নেই। মানুষের কারোওই বৌদ্ধ সেটা ধর্মাবলম্বী হোক, খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী হোক, ইসলাম ধর্মাবলম্বী হোক কারোরই কোনো অধিকার এখানে আপনার নেই।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমান; সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত, আর ছেলে তারেক রহমান এক যুগের বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে আছেন- কয়েকটি মামলায় সাজাও হয়েছে তার।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তারেক রহমান; সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এখন ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত, আর ছেলে তারেক রহমান এক যুগের বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে আছেন- কয়েকটি মামলায় সাজাও হয়েছে তার। “এক কথায় এখন এটা পুরোপুরিভাবে গণতন্ত্রবিহীন একটা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। কর্তৃত্ববাদীও বলি না। আজকে সমস্ত বিশ্বেই আমার কাছে মনে হয় যে, একটা নষ্ট সময় যাচ্ছে। আজকে কর্তৃত্ববাদ, অন্যের অধিকার হরণ করা, অন্যের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করা এটা একটা প্রবণতা বেড়েই চলেছে প্রতিদিনই।”

তিনি বলেন, “যারা ক্ষমতাশালী, যারা পরাক্রমশালী তারা নিজেদের সম্পদকে টিকিয়ে রাখবার জন্যে তারা অন্যদের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। তারা রাষ্ট্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে, তারা রাজ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে।

“ঠিক একইভাবে আজকে বাংলাদেশেও একটা শক্তি যে শক্তি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশে গণতন্ত্রকে ধবংস করেছে, আমাদের দেশের মানু্ষের অধিকারগুলোকে হরণ করেছে এবং আমাদের যে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের যে মূল চেতনা ছিল, সেই চেতনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, “দুঃখ হয় যে, আওয়ামী লীগ দাবি করে যে, তারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি, স্বাধীনতার চেতনা তারা ধারণ করে, তারা দাবি করে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের শক্তির মূল হচ্ছে তারা। দুর্ভাগ্যক্রমে যখনই তারা ক্ষমতায় আসে অথবা জোর করে দখল করে তখনই দেখা যায় যে, অন্যের অধিকারকে হরণ করে, অন্যের কথা বলার স্বাধীনতা সব কিছু তারা হরণ করে নিয়ে যায়।

“মূল কারণটাই হচ্ছে যে, তারা তাদের যে রসায়ন আছে, ইনার কেমিস্ট্রি, সেই রসায়নে কাজ করে এক মেরু অদ্বিতীয়া- আমি ছাড়া আর কেউ নেই।”

রামুর ঘটনাসহ সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ে হামলার নানা ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “দেখবেন যে, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই এই প্রবণতা বেড়ে গেছে। দেখা যায় যে, হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কখনও নিরাপদ বোধ করেনি, তাদের সম্পদ দখল করে নেওয়া হয়েছে।

“পাকিস্তানিরা শত্রু সম্পত্তি আইন করেছিল। সেই আইনটা এখন পর্যন্ত কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং এখানে কিন্তু আমাদের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যে অধিকারগুলো, সেই অধিকারগুলোকে নিশ্চিত করার কোনো ব্যবস্থা তারা করেনি। এদের একটা ডাবল স্ট্যান্ডার্ড আছে। মুখে তারা বলবে সব সময় যে, আমরা সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করি। তাদের দ্বারাই তাদের নেতাদের দ্বারা তাদের সময়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘুদের অধিকারগুলো হরণ করা হয়েছে, ধ্বংস করা হয়েছে।”

ফখরুল বলেন, “আমাদের এখানে গণতন্ত্র নেই, জনগণের শাসন নেই, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক সংবিধান নেই।ওই জায়গায় এসে আমাদের ধরতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে দলের এজিএমে বলেছিলেন, আজকে দেশ ও জাতির জীবনে যে সংকট উপস্থিত এই সংকট বিএনপির নয়, খালেদা জিয়ার নয়, কোনো ব্যক্তির নয়, এটা আজকে সমগ্র জাতির।

“সেই সংকট থেকে জাতিকে উদ্ধার করতে হলে একাত্তর সালে যেভাবে সমস্ত জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে এনেছিল; আজকে সেইভাবে একটা জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমাদেরকে এই ভয়াবহ দানবকে পরাজিত করে সরাতে হবে, জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।”

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, “বর্তমানে গণতন্ত্র শব্দটা সংবিধান থেকে প্রত্যাহার হয়ে গেছে। প্রতিস্থাপিত হয়েছে এখানে লুটপাটতন্ত্র আর যৌনতন্ত্র। নারী নির্যাতনের ঘৃণ্যতম অধ্যায় একাত্তরের যুদ্ধে আমরা দেখেছি পাকিস্তানের বর্বর বাহিনীর কাছে।

“কিন্তু বর্তমানে নারী ও শিশু নির্যাতন ৯ থেকে ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত পরিত্রাণ পায় না। মানুষ বলে মানুষের মন ভাঙা আর মন্দির ভাঙা নাকি এক সমান। তাহলে শিশু বা নারীর ইজ্জতহানি করা একটা মসজিদ ও মন্দির ভাঙার চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পাপ বা অন্যায়। এই অন্যায়ের ৮ বছরেও বিচার হয়নি।” এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সরকারের বিরুদ্ধে সবাইকে রাজপথে নামার আহ্বান জানান তিনি।

২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রামুতে বৌদ্ধদের শুভ মধুপূর্ণিমার আগে রাতে বৌদ্ধ পল্লীতে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। জঘন্যতম ওই ঘটনা স্মরণে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের উদ্যোগে এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভা হয়।

সংগঠনের আহ্বায়ক গৌতম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে ও অপলেন্দু দাস অপুর সঞ্চালনায় এই ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, দীপেন দেওয়ান, অর্পনা রায় দাশ, দেবাশীষ রায় মধু, সুশীল বড়ুয়া, নিপুণ রায় চৌধুরী, তরুণ দে, মিল্পন বৈদ্য প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।(সুত্র : বিডিনিউজ)

বিডি

আপনার মতামত লিখুন :