খানসামায় কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে দুই গ্রুপের মারামারি !

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৩৬ PM, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২০

এস.এম.রকি,খানসামা (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে গিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতির এক পর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে দুই গ্রুপকে ছত্রভঙ্গ করে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় উপজেলার পাকেরহাটের বাইপাসে চৌধুরী অটো রাইস মিল চত্বরে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, পূর্ব নির্ধারিত সময়ে বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার জন্য আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে উপজেলার বিএনপির আহবায়ক কমিটি। কিন্তু বিএনপির অপর একটি পক্ষ ঘটনাস্থলে এসে অনুষ্ঠানে বাধা দেয় ও একটি পক্ষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালায়। এতে আহবায়ক কমিটির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে হাতাহাতির এক পর্যায়ে মারামারি শুরু হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মারামারির এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে দু-পক্ষের নেতাকর্মীদের ধাওয়া করে ছত্রভঙ্গ করে ।

উপজেলা বিএনপির নামে প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুগ্ম আহবায়ক জানান, উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির ১নম্বর যুগ্ম আহবায়ক মিজানুর চৌধুরীকে আমরা কোনভাবেই মানি না। তিনি দলে নতুন হয়েও টাকার বিনিময়ে দলের ১নম্বর যুগ্ম আহবায়ক পদ বাগিয়ে নেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগী নেতাকর্মীরা আহবায়ক কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে আসছিলেন এবং উপজেলা কমিটি ঘোষনা হওয়ার পর থেকেই মিজানুর চৌধুরীকে নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্বের শুরু।

এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘টাকা দিয়ে কখনো রাজনীতি হয় না। মানুষের ভালোবাসা এবং দল আমাকে আহবায়ক কমিটিতে পদ দিয়েছেন বলেই আমি ১নম্বর যুগ্ম আহবায়ক পদ পেয়েছি।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা পৃথক পৃথকভাবে স্বল্প পরিসরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের মাধ্যমে বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেন।

উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক আমিনুল হক চৌধুরী বলেন,‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দলের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার জন্য নেতাকর্মীদের আগে থেকেই জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের শুরুতে একটি পক্ষ এসে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। পরে আলোচনা সভার নেতাকর্মীরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল সম্পন্ন করি।

তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা ও কেন্দ্রে বিষয়টি লিখিত আকারে জানাব। দলীয়ভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ বিষয়ে খানসামা থানার ওসি শেখ কামাল হোসেন বলেন, ‘ঘরোয়াভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভার অনুষ্ঠানে যে মারামারি বা হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের নজরে আসার সাথে সাথেই দুটি পক্ষকেই ছত্রভঙ্গ করে দেই, আর এ বিষয়ে যদি কেউ অভিযোগ করে তাহলে অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা করা হবে।

বিডি

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :