কুসিক নির্বাচনের ফল নিজেদের ঘরে আনতে মরিয়া বিএনপি

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৫৯ PM, ২৩ মার্চ ২০১৭

ঠাকুরগাঁওয়ের খবর ডেস্ক : নানা বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনের ফল নিজেদের ঘরে আনতে মরিয়া বিএনপি। তাই নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচনী ছক একেছে দলটি। দিন যতই যাচ্ছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার উত্তাপ ততই ছড়াতে শুরু করেছে নগর কুমিল্লায়। এরই মধ্যে বিএনপি একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন এবং গণসংযোগও করছেন। যোগ দিয়েছেন জামায়াত ইসলাম ব্যতীত ২০ দলীয় জোটের অন্যান্য রাজনৈতিক দলসমূহ। তারা ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে চষে বেড়াচ্ছেন সিটি করপোরেশন আওতাধীন প্রতিটি অলি-গলি।

তবে বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু অভিযোগ করে বলেছেন, ‘নির্বাচনে আমি এখনও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড পাচ্ছি না। তাই ইসি ও রিটার্নিং অফিসার কঠোর অবস্থান না নিলে নির্বাচন যে যাই বলুক সুষ্ঠু হবে না।’

এদিকে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আঞ্জুম সুলতানা সীমা বলেন, ‘অভিযোগ নেই। বরং যতটুকু দেখছি, প্রশাসন উভয় দলকেই সমান সুযোগ দিচ্ছে।’

এদিকে নির্বাচন কমিশন বলছে- কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে আমরা সব কিছু বিবেচনায় নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আগামী ৩০ মার্চ কুমিল্লা অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচন করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর। আর তাই ভোটাররা যাতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই বিষয়ে সচেষ্ট। নির্বাচনে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বিএনপির বেশ কয়েকজন সক্রিয় কর্মীকে গ্রেফতার করে অন্য কর্মীদের জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, তোমরা যদি ধানের শীষের পক্ষে কাজ কর, তাহলে তোমাদেরও একই অবস্থা হবে। ফলে আমরা যারা এবং যাদের এজেন্ট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রশাসনের লোকেরা বাড়িঘরে খবর পাঠিয়ে কর্মীদের বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে এজেন্ট না হওয়ার জন্য হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এমনকি বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার পর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা বন্ধ করে দিচ্ছেন কিছু ব্যক্তি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীর জন্যই নগরীর দক্ষিণের ৯টি ওয়ার্ডের সাড়ে ৬০ হাজার ভোট নানাবিধ কারণে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মেয়র হতে হলে সদর দক্ষিণ উপজেলার এই ৯টি ওয়ার্ডে ভালো করতে হবে। ফলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত উভয় প্রার্থীর পুরো মনোযোগ এখন সদর দক্ষিণের এই ৯টি ওয়ার্ড ঘিরে। ধারণা করা হচ্ছে, এখানে যে লিড নেবেন সেই ফলাফলে ভালো করবেন।

স্থানীয় বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, বিএনপির মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু’র পরাজয়ের কারণ হতে পারে ধানের শীষ প্রতীক। কারণ বিগত দিনে কুমিল্লাবাসী তাকে মেয়র নির্বাচিত করেছিলেন কারণ তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। আর এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচন তাই পক্ষে-বিপক্ষে রাজনীতির হিসাব রয়েছে। তাছাড়া কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচারণায় অংশ নেয়াটাও সরকার ভালোভাবে নিচ্ছে বলে মনে হয় না। তাই নির্বাচন ও ফলাফল কোন দিকে গড়ায় তা সহজে বলা যাচ্ছে না।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :