কি অপরাধ ছিলো ৫ বছরের শিশু সিয়ামনির!

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৮:২৮ PM, ২৫ জুলাই ২০১৬

বালিয়াডাঙ্গী(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের তেরোকোনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মাদক বিক্রেতা দবিরুল ইসলাম (পাইলেসের রোগী) ২২ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজ বাসায় বসে মেয়ে শাহিনা ও সিয়ামনির সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় তিনজন অপরিচিত লোক এসে বাসায় প্রবেশ করে। প্রবেশ করেই কাউকে কোন কিছু না বলেই দবিরুল ইসলামকে বেধড়ক পেটাতে থাকে।এসময় তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তারা নিজেদের আইনের লোক বলে পরিচয় দেয় এবং উত্তেজিত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। এ সময় পরিবারের লোকজন বাড়ীর কর্তা ব্যক্তিকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁদেরকেও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকে এবং হাতের টর্চ লাইট দিয়ে বাঁচাতে আসা লোকদের পেটাতে থাকে আর জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে বলতে থাকে আমি এসআই নুরুল, আমাকে চিনে না এমন কোন লোক নেই। অন্যদিকে চলে দবিরুলের উপর প্রহার। নিজের চোখের সামনে বাবাকে পেটাতে দেখে তার আত্মচিৎকারে নিজেকে স্থীর রাখতে না পেরে বাবাকে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করতে থাকে ৫ বছরের সিয়ামনি। এ সময় এসআই নুরুল তার হাতের টর্চলাইটটি দিয়ে সজোড়ে আঘাত করে অবুঝ শিশুটির কোমড়ে।এতে শিশুটি সাথে সাথে অজ্ঞান হয়ে পড়লেও সেদিকে কোন ভ্রুক্ষেপ ছিলোনা সে এসআইয়ের।আরেক মেয়ে শাহিনাও তাঁর বাবাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও পেটায় এসআই নুরুল।

প্রত্যক্ষদর্শী খাদিজা বেগম ও ইয়াসমীনসহ অনেকে জানায়, পাশাপাশি বাড়ী হওয়ায় চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে এগিয়ে এসে দেখি এক অপরিচিত লোক দবিরুলকে পেটাচ্ছে আর পাগলের মতো চিৎকার করছে।এসময় দবিরুলকে মারের হাত থেকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে গেলেই তাকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ সহ হাতের টর্চ লাইটটি ছুড়ে মারছে।দবিরুলের মেয়ে শাহিনা আসামীর ওয়ারেন্টের কাগজ দেখতে চাইলে এসআই নুরুল তাকে মারধরসহ অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে।পরবর্তীতে থানা থেকে একটি পিকআপ ভ্যান এসে দবিরুলকে থানায় নিয়ে যায়।অপরদিকে আহত শাহিনা ও সিয়ামনিকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করে এলাকাবাসী।তারা আরো জানান, দবিরুল এক সময় মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলো,কিন্তু বর্তমানে তিনি এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।

এলাকাবাসী জানান, দবিরুলের বিরুদ্ধে মামলা থাকতে পারে, আসামী ধরতেও আসতে পারে পুলিশ।কিন্তু ছোট্ট বাচ্চাটির কি অপরাধ? ওই অবুঝ বাচ্চাটিকে পুলিশ এভাবে মারধর করা ঠিক করেনি।

এ ব্যাপারে দুওসুও ইউপি চেয়ারম্যান আঃ সালাম জানান, ঘটনাটি শুনেছি।তবে পুলিশের প্রহারে শিশু আহত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক।

বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ আমিনুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন আসামীকে ছিনিয়ে নিতে পরিবারের লোকজন আমার চার পুলিশকে আহত করে।এ ব্যাপারে ১টি মামলা রুজু করা হয়। আটক ব্যক্তির নামে ১৭টি মামলা রয়েছে। তবে পুলিশের প্রহারে শিশু আহত হওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

এ ব্যাপারে জেলার বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীদের সাথে কথা বললে তাঁরা জানান, এটা স্পষ্ট ভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘন। কেননা আসামী যতো বড়ই অপরাধী হোক না কেন পুলিশ কোন নিরপরাধ শিশুর উপর হাত তুলতে পারে না।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :