কলকাতায় পালিত হলো গণহত্যা দিবস

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:২৩ AM, ২৬ মার্চ ২০১৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রথমবারের মতো যথাযোগ্য মর্যাদায় কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনে গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে ডেপুটি হাইকমিশন প্রাঙ্গণে গণহত্যার ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শন করার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ও বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর গণহত্যা দিবসের ওপর এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনার শুরুতে ডেপুটি হাইকমিশনার জকি আহাদ বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্য রাতে নিরীহ সাধারণ জনতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনগুলোতে অবস্থানরত ছাত্র-শিক্ষকবৃন্দ এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইনের সৈনিক ও অন্য স্থানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যে বর্বর হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে তা ছিল জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য তিনি বিশ্ববিবেকের কাছে আহবান জানান।

প্রখ্যাত সাংবাদিক ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্মাননা পুরস্কার প্রাপ্ত সাংবাদিক মানস ঘোষ বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক আক্রমণের দিবসটিকে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে যে হত্যাকাণ্ডের বীভৎস চিত্র দেখেছি তা মনে হলে এখনও গা শিহরে ওঠে। বাংলাদেশের এই অবর্ণনীয় হত্যাকাণ্ডটি জাতিপুঞ্জ স্বীকৃতি দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্মরণ করার জন্য জোর দাবি জানান তিনি।

আলোচনায় অংশ নেন ১৯৭১ সালে বাংলদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন আকাশবাণীতে কর্মরত সংবাদ বিচিত্রা অনুষ্ঠানের প্রযোজক ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা সম্মাননা পুরস্কার প্রাপ্ত সাংবাদিক উপেন তরফদার। তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে আমরা সংবাদকর্মীরা স্তম্ভিত হয়ে যেতাম। মানুষ যে মানুষের ওপর এতো হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে তখন সে খবর শুনে আমাদের কলম বন্ধ হয়ে যেতো। কলকাতার এ মিশন প্রধানের সহধর্মীনীর আহবানে রিপোর্টিং করতে এসে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক নির্যাতিত এক মহিলার ওপর পাশবিক নির্যাতনের কাহিনী শুনে আমি নিজেই মুষঢ়ে পড়েছিলাম।

আন্তর্জাতিক খবর

আপনার মতামত লিখুন :