করোনায় জৌলুস হারাতে বসেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘর খ্যাত এফডিসি

Bidhan DasBidhan Das
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৮ PM, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

বিনোদন ডেস্ক : করোনার কারণে ঢাকাই চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘর বলে পরিচিত এফডিসি তার রূপ, যশ জৌলুস হারিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নীরব নিথর কঙ্কাল হয়ে। লাইট-ক্যামেরা অ্যাকশন, শুটিং ফ্লোরে হইচই, গেটে সাধারণ মানুষের লাইন- এসবের কিছুই নেই। অভিনয়শিল্পীদের পদচারণাও কম কয়েক বছর ধরে। বেশির ভাগ শুটিং ফ্লোরই থাকে তালাবদ্ধ। জং ধরেছে এফডিসির পরতে পরতে। সকাল গড়িয়ে দুপুর পর্যন্ত পিয়ন আর গেটম্যান বাদে দেখা মেলে না কারোই। এক কথায়, কর্মহীন এফডিসির চারদিকে খাঁ খাঁ অবস্থা।

তবে এফসিডিতে শুটিং না চললেও সরগরম থাকে বিভিন্ন সমিতির কার্যালয়। বছরজুড়ে সমিতির নেতারা হাঁকডাক ছাড়েন এখানে বসেই। সমিতির লোকজন বেশির ভাগ সময়ই এফডিসিতে আসেন বিকালে কিংবা সন্ধ্যায়। তবে কাজের জন্য নয়, আড্ডা দিতে। দলাদলি, সংগঠন আর বয়কটের মতো হঠকারী সিদ্ধান্তগুলো আসে এসব আড্ডা থেকেই।

একসময় অতিরিক্ত শিল্পী থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের শীর্ষ তারকাদের পদচারণায় মুখরিত থাকত এফডিসির ক্যান্টিন। সেখানেও লেগেছে ভাটার টান। বিকাল হলে হাতেগোনা কিছু উঠতি তারকা ছাড়া এখন আর কাউকে দেখা যায় না ক্যান্টিনে। এর পরও যারাই আসেন, তারাও কাজের চেয়ে ছবি তোলা ও খোশগল্পেই বেশি মেতে থাকেন। আর এফডিসির অন্যতম আলোচিত জায়গা ঝর্ণা স্পটের মুল ফটকই বন্ধ রয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে।

এফডিসির এক কর্মকর্তা জানান, ‘কয়েকটা মিউজিক ভিডিও আর নাটকের শুটিং ছাড়া খুব বেশি সিনেমার শুটিং হয় না এখানে। বেশির ভাগ সিনেমার শুটিংই হয় বাইরে। যদিও নভেম্বর থেকে বেশ কয়েকটি সিনেমার শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এফসিডিতে।’ কর্তাব্যক্তির এমন মন্তব্যের সত্যতাও পাওয়া গেছে। করোনা পরিস্থিতি কিছু শিথিল হওয়ায় বেশ কয়েকটি সিনেমার শুটিং শুরু হয়েছে। কিন্তু কোনোটার শুটিংই এফডিসিতে হচ্ছে না।

গত কয়েক বছর ধরেই চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে এফডিসি বিমুখতা তৈরি হয়েছে। তারা এফডিসির শুটিং ফ্লোর রেখে বাইরের লোকেশনে (আউটডোর) শুটিং করতে বেশি আগ্রহী। কিন্তু কেন? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ সময়ই নির্মাতাদের চাহিদা পূরণে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এফডিসি। বিশেষ করে বর্তমান সময়ের সিনেমা নির্মাণে যে ধরনের আধুনিক সরঞ্জাম লাগে সেগুলো এফডিসিতে নেই।

এফডিসির ক্যামেরাও অনেক নিম্নমানের। সেখানে ডিজিটালের ছিটেফোটাও নেই। চলচ্চিত্রের বেশির ভাগ কাজই এখন বাইরে করতে হচ্ছে। তা ছাড়া কালার কারেকশনের ব্যবস্থাও নেই এখানে। প্রজেক্টরের ভেতরে ফ্যানের আওয়াজের কারণে ঠিকমতো ডাবিং করাও যায় না। ফলে নির্মাতারা আউটডোর শুটিংয়ের প্রতি ঝুঁকছেন। আর বছরের পর বছর এফসিডি হারাচ্ছে মোটা অঙ্কের রাজস্ব।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, ভেঙে ফেলা হয়েছে এফডিসির ঐতিহ্যবাহী তিন ও চার নম্বর শুটিং ফ্লোর। ভাঙার শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে। ভাঙা শেষ হলে এখানে গড়ে উঠবে ১৫ তলা আধুনিক ভবন। নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হতে আগামী ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। সরকার এফডিসির আধুনিকায়নের জন্য ৯৪ কাঠা জমির ওপর নতুন এ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যদিয়ে এফসিডি আবারও তার যৌবন ফিরে পাবে- সেই আশাই করছেন চলচ্চিত্রপ্রেমীরা।

বিডি

আপনার মতামত লিখুন :