এনজিওর ঋণে সর্বশান্ত বালিয়াডাঙ্গীর হাজারো হতদরিদ্র পরিবার

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০২ AM, ২১ জানুয়ারী ২০১৬

মজিবর রহমান শেখ, বালিয়াডাঙ্গী(ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ক্ষুদ্র ঋণে জড়িয়ে যাচ্ছে এই অঞ্চলের বিশাল হতদরিদ্র জনগোষ্ঠী। এই উপজেলায় ক্ষুদ্র ঋণ দান কারী বিভিন্ন এনজিও থেকে শতকতরা প্রায় ৮৫ভাগ হত দরিদ্র মানুষ ঋণ নিচ্ছে। পুরো বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জুড়ে প্রাথমিক ভাবে জড়িপ করে দেখা যায়, একজন দরিদ্র মানুষ একটি এনজিও থেকে ঋণ নেবার পর বছরের পর বছর পার হলেও এঋণ থেকে আর মুক্তি পায়নি। অনেক ক্ষেত্রে গ্রামের দরিদ্র সহজ সরল মানুষ এক এনজিওর ঋণ পরিশোধ করার জন্য আরেক এনজিও থেকে ঋণ নিচ্ছে। এভাবে কয়েকজন দরিদ্র মানুষ একাধিক এনজিওর ঋণের সাথে জড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে ঋণে পরে সর্বশান্ত হচ্ছে হতদরিদ্র পরিবারগুলো। এঅবস্থায় ঋণের টাকা না দিতে পেরে বকেয়া রেখে অনেকেই গ্রাম ছেড়েে বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার ঋণী এনজিওর কর্মকর্তার চাপে ভিটে মাটি বিক্রি করে দিচ্ছে। বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বেশ কিছু এনজিও দরিদ্রদের মাঝে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করে থাকে। অভিযোগ রয়েছে কাগজপত্রে এসব এনজিওর সুদের হার শতকরা ১৫% দেখানো হলেও বাস্তবে এরা শতকরা ২০% থেকে ২৫% পর্যন্ত সুদ আদায় করছেন। ঋণ পেতে হলে মাঠ কর্মীকে দিতে হয় মোটা অংকের সেলামি ও কথিত ফাইপত্র বাবদ খরচ। বিশেষ করে ব্র্যাক, আশা, গ্রামীণ ব্যাংক, টিএমএসএস ও আশ্রয় এনজিওর ঋণের ফাঁদে এখন হাজারো মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ঋণ প্রদানকারী কর্মকর্তারা বাড়তি সুদের কথা অস্বীকার করে জানান, কাউকে ঋণ দেওয়া হলে সরকারের বিধি মোতাবেক সুদ আদায় করা হয়। এই নিয়ে ঋণ গ্রহণকারী কয়েকজন অভিযোগ করে জানান, এনজিওরা ঋণ দেবার পরের সপ্তাহ থেকেই সুদ সহ কিস্তি উঠানো শুরু করে। ঋণের টাকা খাটানোর সময়টুকু দেয় না তারা। এভাবে কৌশলে তারা গ্রাহকদের কাছ থেকে সুদে ও আসলে বাড়তি টাকা আদায় করছেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, ঋণের টাকা এক বছর খাটানোর সুযোগ নেই এনজিওর কাছে। নেওয়ার পরেই সপ্তাহ থেকেই ঋণের কিস্তি গুনতে হচ্ছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে কখনো অন্য এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আরেক এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করে থাকেন তারা। মেয়াদ শেষ হওয়ার পূবেই প্রথমেই যে এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া হয় সেই ঋণ পরিশোধ করে আবার একই এনজিও থেকে পুনরায় ঋণ নিয়ে দুটি এনজিওর কিস্তি ঘারে চাপে। এভাবে একের পর এক এনজিওর ঋণে আটকা পড়ে আসছেন এঅঞ্চলের শতকরা প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ। অন্যদিকে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা এনজিও সমবায় সমিতির নামে চলছে রমরমা সুদের ব্যবসা। এই উপজেলার হাজারো মানুষের কিস্তি এখন প্রতিদিনের সঙ্গী। তারপরও পরিবারকে বাচাতেও অভাবের তাড়নায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার প্রতিটি দরিদ্র মানুষেরা বিভিন্ন এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিচ্ছে, কখনও তা সবকিছু জানার পরও অভাবের তারনায় নিরুপায় হয়ে ঋণ নিচ্ছে।

এব্যাপারে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, ঋণের টাকা আদায়ে কোন এনজিও যদি নির্ধারিত সুদের চেয়ে বেশি সুদ আদায় করে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :