ইন্টারনেটে অশ্লীলতা বন্ধে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:৫৫ AM, ২১ ডিসেম্বর ২০১৫

ডেস্ক রিপোর্ট : অশ্লীলতা বন্ধে ইন্টারনেট ফিল্টার করার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। এতে আপত্তিকর বিষয় যাচাই-বাছাই করা হবে। বিশেষ করে অশ্লীল ভিডিও, বার্তা, বিকৃত ও উসকানিমূলক মন্তব্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা ফিল্টার করা হবে। এতে অপরাধমূলক কার্যক্রম কমবে বলে মনে করছে সরকার। একই সঙ্গে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করারও উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫ কোটি ৪৬ লাখ। এ প্রসঙ্গে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম বলেন, যারা ইন্টারনেটের অপব্যবহার করছে, তাদের এ কাজ থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না। বিভিন্নভাবে সাইবার অপরাধ হয়। ইন্টারনেটে উত্ত্যক্ত করার অনেক পদ্ধতি আছে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় তরুণীরা। ৭৩ শতাংশ নারী সাইবার অপরাধের শিকার হন। এদের মধ্যে মাত্র ২৩ শতাংশ অভিযোগ করেন। ৩৫ শতাংশ নারী কোন অভিযোগই করতে চান না। তিনি বলেন, আমরা একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি, যাতে দেশের বাইরে থেকে কোনো আপত্তিকর বিষয় ইন্টারনেটে যাচাই-বাছাই হয়ে আসে। লাইসেন্সধারী ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের তথ্য আমাদের কাছে আছে। ইন্টারনেট সেবা দিতে হলে অন্যদের লাইসেন্স নিতে হবে। সেবা প্রদানকারীদের তথ্য তাদের রাখতে হবে। ফলে সবকিছু একটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসবে। বিটিআরসি জানিয়েছে, সর্বশেষ অক্টোবরের হিসাবে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে ৬ লাখ। এর আগের মাসে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ে ১৮ লাখ। অক্টোবরে ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৪৬ লাখ, আর সেপ্টেম্বরে তা ছিল ৫ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে মোবাইলফোনে ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যা ৫ কোটি ১৯ লাখ থেকে ৪ লাখ বেড়ে ৫ কোটি ২৩ লাখ হয়েছে। আইএসপি ও পিএসটিএন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৯ লাখ থেকে বেড়ে ২১ লাখ হয়েছে। দেশে বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটকসহ ৬টি মোবাইল অপারেটর রয়েছে। এগুলো হচ্ছে, গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি, এয়ারটেল ও সিটিসেল। এদিকে সম্প্রতি গ্রামীণফোন পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৩০ শতাংশেরও বেশি সাইবার বুলিং-এর শিকার অথবা এরা ইন্টারনেটে উত্ত্যক্তকারীদের  অশোভন বার্তা পেয়েছে। এ গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ছাত্রীদের চেয়ে ছাত্রদের কাছে এ ধরনের বার্তা বেশি এসেছে। আর ছাত্রীরা এমন সব বার্তা পেয়েছে যেখানে অচেনা ব্যক্তিকে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। ইন্টারনেটের এই অপব্যবহার শিক্ষার্থীদেরকে খুবই অস্বস্তিকর অবস্থায় ফেলে দেয়।

BTRCগ্রামীণফোনের হেড অফ কর্পোরেট রেসপনসিবিলিটি দেবাশীষ রায় বলেন, বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ৫ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর মধ্যে ৮৫ শতাংশই তরুণ। এর মানে, বাকি বিশ্বের সঙ্গে সমান অগ্রসরমানতায় আমরা ভবিষ্যতের দিকে আগাচ্ছি। অন্যভাবে, উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই সাইবার অপরাধ বিষয়ে সঠিকভাবে অবগত নয়। তারা জানে না কিভাবে একে প্রতিহত করতে হয়।  গত অক্টোবরে আইটিইউ ও ইউনেস্কো প্রকাশিত ‘দ্য স্টেট অব ব্রডব্যান্ড ২০১৫’ শীর্ষক  বৈশ্বিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বিটিআরসি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিশ্বের ১৮৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৯। অন্যদিকে ভারতের ১৫৫ ও পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৬ তম। বাংলাদেশ প্রতি ১০০ জনে তারযুক্ত ফিক্সড বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারে গত বছরের চেয়ে ৪ ধাপ এগিয়ে ১৩২ অবস্থানে উঠে এসেছে। এ সূচকে বাংলাদেশ প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তান (১৩৫), নেপাল (১৩৯), মিয়ানমার (১৫১), আফগানিস্তান (১৮৫)সহ ৫৭টি দেশের চেয়ে এগিয়ে।

বিটিআরসির সচিব মো. সরওয়ার আলম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে ডিজিটাল উন্নয়নের জন্য জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশনের সাম্প্রতিক সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ব্রডব্যান্ড  পরিস্থিতি নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশে থ্রিজি প্রযুক্তি চালুর পর মোবাইলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত দ্রুত বাড়ছে। কমিশনের প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইন্টারনেট গ্রাহক সংখ্যা গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।  ২০০২ সালে যেখানে গ্রাহক সংখ্যা ৭০ হাজার, ২০০৪ সালে ১ লাখ, ২০০৯ সালে ৭০ লাখ, ২০১১ সালে ২ কোটি, ২০১৩ সালের জুলাই মাসে ২ কোটি ৬০ লাখ, ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ছিল।

আপনার মতামত লিখুন :