ইট ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে আবাদী জমির ধান

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:৫৬ AM, ২৪ এপ্রিল ২০১৬

রংপুর ব্যুরো : রংপুরের বদরগঞ্জে ই্টভাটার কালো ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে প্রায় ৮০একর ফসলী জমির ধান। চলতি বোরো মৌসুমে সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে এ ধান চাষ করলেও আবাদ শেষে এক ছটাক ধানও উঠবে না বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা।

শনিবার(২৩এপ্রিল) সকালে উপজেলার দামোদরপুর ইউপির শেখেরহাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমির পাশে এসবিসি,এবিসি নামে দুটি ই্টভাটা অবস্থিত। কৃষকদের অভিযোগ তাদের ইটভাটায় খড়ি ও কয়লা দ্বারা ইট পোড়ানোর কারনে যে বিষাক্ত ধোঁয়া নির্গত হয় সে ধোঁয়ায় কৃষকের প্রায় ৮০একর জমির ধান সম্পূর্নরুপে পুড়ে গেছে।

কৃষক মোতালেব মিয়া (৪৭) চলতি বোরো মৌসুমে তার ২বিঘা জমিতে চাষাবাদ করেছেন উন্নত জাতের ধান। বাম্পার ফলন হওয়ায় ফসল ঘরে তোলার জন্য তিনি অপেক্ষার প্রহর গুনছেন। কিন্তু বুধবার ক্ষেতে গিয়ে দেখতে পান তার জমির ধান সম্পূর্ন পুড়ে গেছে। এতে করে কৃষক মোতালেব চিন্তায় পড়ে যান। কারণ খুঁজতে গিয়ে জানতে পারেন জমির পার্শ্বে অবস্থিত এবিসি নামক একটি ইটভাটার জ্বলন্ত আগুন নেভানোর পর ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া ধানের জমিতে নির্গত হওয়ায় জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। শুধু তিনি নন, আশে পাশের ২ ডজন কৃষকের প্রায় ৮০একর জমির ধান পুড়ে গেছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২১এপ্রিল) এলাকাবাসি ও ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা উপজেলা নির্বাহি অফিসারের দফতরে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

কৃষক আলম মিয়া (৪৬) আক্ষেপ করে বলেন,একেই তো বাজারোত ধানের দাম নাই। তার উপর ফির হামার ভুঁইয়ের সউগ ধান ভাটার ধুম্যাত পোড়া গেল। বাল বাচ্ছা নিয়ে হারা এবার কি খায়া বাঁচমো বাহে!”

এ বিষয়ে এবিসি ইট ভাটার মালিক রফিকুল ইসলামের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমার হাওয়া ভাটার ধোঁয়ায় কৃষকদের ধান নষ্ট হতে পারেনা। আশে পাশে আরও অনেক ফিকস্ ভাটা রয়েছে নিশ্চয় ওই সব ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় কৃষকের ফসল নষ্ট  হয়েছে।

দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই অঞ্চলের কৃষকরা ইটভাটার কারনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

বদরগঞ্জ উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কনক চন্দ্র রায় জানান, ইটভাটায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কাছ হতে বিষয়টি জেনেছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুর রহমান জানান, কৃষকের ধান পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি দামোদরপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে অবগত করেছেন। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ইটভাটা খ্যাত বদরগঞ্জ উপজেলায় ৪৭টি ভাটার মধ্যে বর্তমানে ৩৮টি ভাটা চালু রয়েছে। চলমান এই সব ইট ভাটার কারণে প্রতি বছর উপজেলার কোটি কোটি টাকার ফসল, বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ  গাছপালা নষ্ট  হয়ে যাচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :