ইউটিউবে আপলোড করা ছাত্র নির্যাতন; পুলিশ সুপারের জোড়ালো পদক্ষেপে মূল আসামী গ্রেফতার

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৩৫ PM, ২৮ মার্চ ২০১৬

ফরিদুল ইসলাম (রঞ্জু),সাব-এডিটর,দৈনিক ঠাকুরগাঁওয়ের খবর : প্রায় দুই বছর আগে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের এক ছাত্রের নির্যাতনের দৃশ্য ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। পরে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের ভিত্তিতে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জানা যায়, শনিবার (২৬মার্চ) রাতে নির্যাতনের শিকার ছাত্র শামীম সরকার বাদী হয়ে সহপাঠি মেহেদী হাসান, শশি জিৎ রায়, মেজবাউল হাসান দুর্জয়, আবুল কালাম আজাদ, মাজহারুল ইসলাম, আবু হানিফা, রাশেদুজ্জামান রাশেদ, আব্দুল জলিলকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করে। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও জেলার পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ ঘটনার রহস্য উৎঘাটনে স্বয়ং তদন্তে মাঠে নামেন। তাঁর নির্দেশনায় পুলিশের ইনটেলিজেন্সি টিম রোববার রাতে মামলার অন্যতম আসামি মেহেদী হাসানকে ঢাকায় আটক করে সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও থানায় নিয়ে আসে।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ২০১০ সালে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আব্দুল খালেক সরকারের ছেলে শামীম সরকার ফুড বিভাগে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন। ২০১৪ সালে ২৯ নভেম্বর সকাল ১১টায় সহপাঠি মেহেদী ও শশী জিৎ মিথ্যে কথা বলে তাকে কলেজের নিচতলার ড্রয়িং রুমে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে আগে থেকে বসে থাকা এজাহারে উল্লেখিত সহপাঠিরা কাঠ ও ক্রিকেটের স্টাম্প দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে। তাদের অমানসিক নির্যাতনে শামীম সরকার রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে মেহেদী ক্রীড়া সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতির জন্য সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এরপর ছেড়ে দেয়। তাদের হত্যার হুমকিতে আর মুখ খোলেননি শামীম সরকার।
প্রায় দুই বছর আগে ওই নির্যাতনের ভিডিও’র দৃশ্য গত ২৪ মার্চ ইউটিউব থেকে ফেসবুকে আপলোড করা হয়। এতে শামীম সরকারকে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মানহানি করা হয়েছে এবং  তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন মর্মে এই এজাহার করেন।
ঠাকুরগাঁও থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, রোববার মামলার প্রধান আসামিকে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার তাকে ঠাকুরগাঁওয়ে আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।বাকী আসামীদের ধরতেও জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ জানান, অপরাধী যেই হোক বা যতো বড়ই ক্ষমতাশালী হোক না কেন তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। আইনের উর্দ্ধে কেউ নয়।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :