ইউএনও’র মানবিকতা; বাড়ি পাচ্ছে রাস্তার পাশে ঝুপড়িতে থাকা ‘সেই’ পরিবার !

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:১৮ PM, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘মানুষ মানুষের জন্য’ কথাটি আবারো প্রমাণ হল। অবিশ্বাস প্রতারণা আর নানামুখী অপরাধের বেড়াজালে মানুষ যখন আবদ্ধ তখনো কিছু মানুষ আত্মার প্রশান্তিতে ভালো কিছু করার চেষ্টা করে যান। যাদের সহযোগিতা আর ভালবাসায় অবহেলিত বঞ্চিত কিছু মানুষ এখনো ভালভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্নটুকু দেখতে পায়। অবশেষে পথের ধারের ঝুপড়িতে থাকা সেই পরিবারটি পাচ্ছে ঘর।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মানবিক নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন গৃহহীন পরিবারটির দায়িত্ব নিয়েছেন। তাদেরকে ঠাকুরগাঁও সালন্দর ইউনিয়নে পুর্নবাসন করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ছয় বছর ধরে রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ঠাকুরগাঁওয়ের সালন্দর সিংপাড়া গ্রামের ভূমিহীন রিকশা চালক হজরত আলী, এমন প্রতিবেদন নজরে আসে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের। রবিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সালন্দর সিংপাড়া গ্রামের ভূমিহীন রিকশা চালক হজরত আলীর ঝুপড়ি ঘরে হাজির হোন। এ সময় তিনি শীতবস্ত্র, সরকারি ঘর নির্মান ও পুর্নবাসনের আশ্বাস প্রদান করেন পরিবারটিকে।

স্থানীয় বাসিন্দা সোলেইমান আলী বলেন, ইউএনও আব্দুল্লাহ-আল-মামুনের মতো সবাই যদি এভাবে মানবিকতা নিয়ে এগিয়ে আসতো, তাহলে এসব দরিদ্র পরিবারগুলো বেঁচে থাকতো পারতো। আমি উনার কাছে কৃতজ্ঞ হয়ে রইলাম তার এ মানবিকতার জন্য। সবাই যদি এমন সব কাজে এগিয়ে আসে তাহলে অনেক অসহায়, দুঃস্থ পরিবার উপকৃত হবে। এভাবে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতা।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন জানান, মানবিক প্রতিবেদনটি নজরে পড়ায় ছুটে এসেছি গৃহহীন হজরতের ঝুপড়ি ঘরে। রাস্তায় পাশে খুবই কষ্টে দিনযাপন করেছে তার পরিবার। সরকার যখন সকল গৃহহীনদের পাকাঘর নির্মান করে দিচ্ছেন। সেখানে হজরত আলীর পরিবার ঝুপড়ি ঘরে পড়ে থাকাটা অমানবিক। দ্রুত তাদের ঘর নির্মান ও পূর্ণবাসনের উদ্যোগ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ছয় বছর ধরে এই ঝুপড়িতে হজরত আলীর পরিবারের বসবাস। তার দুই মেয়ে ও দুই ছেলে। ছেলেরা ঢাকায় কাজ করে। বাবা-মায়ের কোনো খোঁজ-খবর তারা নেয় না। শেষ সম্বল বসতবাড়িটি বিক্রি করে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলেন। তাই বাধ্য হয়েই সরকারি রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন হজরত। উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে জীবন কাটে নিদারুণ অনটনে রাস্তার পাশে ঝুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলো পরিবারটি।

বিডি/টিএইচ

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :