আমাগো অহন কেড়া দেখবো” আমরা কি খামু কি করমু ?

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০৮ PM, ২৭ জুলাই ২০১৬

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস,টাঙ্গাইল থেকে : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার যমুনা নদীর থাবার সাথে যুদ্ধ করে ৮০ বছর বয়সী নূর মোহাম্মদ নিজের বাড়ীঘর নদী গর্ভে চলে গেলে করুণ আর্ত চিৎকারের সময় দু হাত আকাশের দিকে তোলে বলছিলেন ”আমাগো অহন কেড়া দেখবো” আমরা অহন কি খামু কি করমু ?

কালিহাতী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের শতাধিক বাড়ি ঘর ইতোমধ্যে যমুনা ও লৌহজং নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় নতুন নতুন জনপদ রয়েছে ভাঙ্গনের চরম হুমকির মুখে। নদীতে ক্ষতিগ্রস্থরা মানবেতর জীবনযাপন করলেও সরকারি সাহায্য এখনো মেলেনি তাদের ভাগ্যে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কালিহাতী উপজেলার পশ্চিমে দুর্গাপুর, গোহালিয়াবাড়ী, সল্লা ইউনিয়ন এবং এলেঙ্গা পৌরসভার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে যমুনা ও লৌহজং নদী। এবার বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে উপজেলার বেলটিয়া, শ্যামসৈল, আলীপুর, আফজালপুর, বিনোদ লুহুরিয়া, বিয়ারা মারুয়া, কুর্শাবেনু, বেনুকুর্শা, যোকারচর, মীর হামজানি, হাতিয়া, মগড়া, টিকুরিয়াপাড়া ও বাঁশি গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া প্রতিদিনই নতুন নতুন বাড়ি ঘর ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। হুমকির মুখে রয়েছে অসংখ্য পরিবার। নদী ভাঙনে সহায় সম্বল সবকিছু হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলো আশ্রয় নিয়েছে অন্যের বাড়িতে কিংবা খোলা জায়গায়। ভাঙনকবলিত নিরহ মানুষ বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
শ্যামসৈল গ্রামের ফজলুল হক (৭০) নামের এক বৃদ্ধ বলেন আমাদের গ্রামের অনেকের বাড়িঘর সবকিছু নদীতে ভেঙ্গে নি:স্ব হয়েছে। কিন্তু কেউ খোঁজ পর্যন্ত নেয় নাই। ওসমান গণি (২৮) নামের আরেক ব্যক্তি বলেন প্রতিবছরই আমরা নদী ভাঙ্গনের শিকার হই। অনেকের থাকার জায়গা টুকুও নেই। নদী নিয়মিত ভাঙ্গলেও নদী শাসন কিংবা ভাঙ্গন রোধে নেয়া হয়না কার্যকর কোন ব্যবস্থা।

কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন বলেন উপজেলায় নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থদের তাৎক্ষণিক সাহায্য প্রদানের জন্যে তালিকা করা হচ্ছে। এছাড়া ভাঙনের শিকার কয়েকটি পরিবারের মধ্যে কিছুদিন পূর্বে নগদ টাকা এবং ঘর নির্মাণের জন্য ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে ভাঙ্গনের হুমকিতে থাকা জনপদের বাসিন্দারা ভাঙ্গন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ  নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। ভাঙ্গনের ফলে মানচিত্র থেকে মুছে যাচ্ছে কয়েকটি গ্রাম।

এবিষয়ে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ বলেন, আমি ভাঙ্গন পয়েন্টগুলো পরিদর্শন করেছি। ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্যে একটি প্রকল্প ঢাকায় পাঠানো হয়েছে । অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।

নদী ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রন্থ মানুষের অভিযোগ দীর্ঘদিন যাবত অবৈধ-অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণেই নদী ভাঙ্গে এবং তারা ঘর বাড়ির সবকিছু হারিয়ে নি:স্ব হয়ে যায়।

জনদুর্ভোগ

আপনার মতামত লিখুন :