আপেল কুল চাষে ভাগ্য বদলীয়েছে পাঁচবিবির রাশেদ

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১৬ PM, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২১

আকতার হোসেন বকুল, পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি : বলসুন্দরী ও সীডলেস (আটিবিহীন) কাশ্মীরি আপেলকুল চাষে ভাগ্য বদলীয়েছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের রাশেদুজ্জামান। প্রচন্ড সুস্বাদু, মিষ্টি আর লাল টুকটুকে রংয়ের এসব বরই চাষে তিনি এলাকার মডেল হয়েছেন। অনেক বেকার শিক্ষিত যুবক তার এ সাফল্যের পথে হাঁটছেন।

উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের আঃ হাকিমের ছেলে রাশেদুজ্জামান পড়ালেখার পাঠ শেষে কয়েক বছর চাকরীর পিছনে ছুটেছেন। চাকরী না পেয়ে হতাশাগ্রস্থ না হয়ে সমাজে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে বরই চাষ শুরু করেন। মহিপুর হাজী মহসীন সরকারি কলেজের পূর্ব পাশে প্রায় ৮ বিঘা জমি লিজ নিয়ে প্রথমে নার্সারী করেন। তাঁর নার্সারীতেই তৈরী বরই গাছেরচারা দিয়ে বাগান শুরু করেন। এক বছর বয়সেই চারাগাছ প্রায় ৫ ফুট লম্বা আকার ধারন করে এবং বরইয়ে বাগান ভরে যায়। বাগান করতে এ পর্যন্ত প্রায় ২ লক্ষ টাকার অধিক খরচ হয়েছে বলে জানায় রাশেদ। এ বছরই বরই বিক্রয় প্রায় ৫ লক্ষ টাকার অধিক হতে পারে বলে তাঁর ধারনা।

রাশেদের বাগানে গিয়ে দেখাযায়, প্রতিটি গাছে বলসুন্দরী ও সীডলেস বরইয়ে ছেঁয়ে আছে। ফলের ভারে গাছ ও ডালগুলো মাটির সাথে ন্যুয়ে আছে। ভারসাম্য রক্ষার্থে বাঁশের খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা হয়েছে। পাহারা দেওয়ার জন্য বাগানের তিন পাশে উঁচু করে টোল টাঙানো হয়েছে। দিন-রাত পালাক্রমে পাহারা দেওয়া হচ্ছে বাগানের বরই। বাগান থেকে পাইকারি ৫০-৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি করলেও বাজারে এর খুচরা মূল্য ৭০-৮০ টাকা।

বাগান মালিক রাশেদ বলেন, বাগান করতে প্রথমে অনেক খরচ হলেও পরবর্তীতে আর তেমন খরচ হবে না। পরের বছর থেকে এই বাগান থেকে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকা আয় হতে পারে। তিনি আরো বলেন, তার নার্সারী থেকে এ পর্যন্ত ২০-২৫ জন বিভিন্ন জাতের বরই সহ অন্য ফলের চারা নিয়ে বাগান করেছে। নার্সারী থেকে স্বল্প মূল্যে এসব চারা বিক্রয় করছেন এবং সকল ধরনের পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ লুৎফর রহমান জানান, উপজেলায় ৩৫ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় অনেক বরই বাগান রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সর্বক্ষণ প্রতিটি বাগান মালিককে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলেও তিনি জানান।

বিডি

আপনার মতামত লিখুন :