আউলিয়াপুরে বিষ প্রয়োগে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:২২ PM, ০৮ মার্চ ২০১৬

Munir_Awliapur11ঠাকুরগাঁওয়ের খবর : ঠাকুরগাও সদর উপজেলার আওলিয়াপুর ইউনিয়নের কেয়ারিগাও এলাকায় নিষিদ্ধ ঔষধ ব্যবহার করে জমির ফসল ক্ষতি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগকারী জমির মালিক মুনির হোসেনের অভিযোগে জানা যায়, গত ২৯ ফেব্রুয়ারী দিবাগত রাতে, কে বা কাহারা মুনিরের আবাদ কৃত প্রায় সোয়া দুই বিঘা জমির ফসলের উপর ক্ষতিকারক নিষিদ্ধ ঔষধ ব্যবহার করে। পরের দিন মুনির ও তার স্ত্রী জমিতে গিয়ে দেখে ফসলের প্রায় সব গাছ কোকড়া লেগে গেছে। তার পরের দিন গাছের অধিকাংশ পাতার কিছু কিছু জায়গায় পুড়ে গেছে,এবং গাছ গুলো মারা গেছে। মর্মাহত মনির জানায়, তার ফসলি জমিতে ঢেঁড়শ,রসুন ও পিঁয়াজ আবাদ করতে প্রায় ৭০/৮০ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। আবাদ ঘরে তুলতে পারলে সে প্রায় দুই লক্ষ টাকার ফসল বিক্রি করতে পারতো। কথায় বলে, চোর চুরি করলেও সাক্ষী রেখে যায়। মুনির তার ফসলের জমির পাশে ভূট্টার ক্ষেতে কিছু ভূট্টার গাছ তার ফসলের মতো দেখতে পেয়ে সেই চিহ্ন মোতাবেক সামনে এগুতে থাকে। নিষিদ্ধ স্প্রে শেষে যে এই কাজটি করেছে, সে যেই পথ দিয়ে গেছে স্পে’্রর ফোঁটা সেই পথেই থাকা গাছ গুলোর উপর পড়ে আর তার ফসলের মতো পুড়ে গিয়েছে। ফসলের জমি শেষে যেই বাড়িটি রয়েছে, সেই বাড়ির দুই ভাই করিম (৪০)ও মজিদ (৫০) এর সাথে মাস তিনেক আগে জমি নিয়ে মুনিরের বাকবিতন্ডা ও হাতা হাতি হয়। মুনির অভিযোগ করে বলেন, এই গ্রামে করিম ও মজিদ ছাড়া তাদের কারো সাথে বিরোধ নেই। এই কাজ তারাই করেছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মুনিরের জমির পাশ থেকে সোজা এক রাস্তায় অধিকাংশ ফসলে পোঁড়া দাগ। করিম ও মজিদের বাড়ি গেলে মজিদের বউ রঞ্জনা ক্যামেরার সামনে আসতে আপত্তি জানায়। পরে দুই ভাই এর সাথে কথা বললে,তারা বলে এটা মিথ্যা ও বানোয়াট। আর মুনিরের সাথে তাদের কোন সমস্যা ছিলোনা। পরে তাদের ডেকে এনে, হেঁটে যাওয়া রাস্তার ফসল দেখালে তারা সেটাকে ভাইরাস বলে। গোটা জমিতে এই ভাইরাস আর কোথাও আছে কিনা দেখাতে বললে, তারা কোন উত্তর দিতে পারেনি। এলাকার বয়োজেষ্ঠ্য মঞ্জুর মিয়া (৬২) বলেন, এই ধরণের ঘটনা এই এলাকায় প্রথম ঘটেছে। এখনি সঠিক বিচার না হলে,এমন ঘটনা এলাকায় আরও ঘটার আশংকা রয়েছে।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পেট্রোল ও কেরোসিন একত্রিত করে ফসলে স্প্রে করলে,আগাছা নাশক ঔষধ (উইডিসাইড)এর ডোজ বেশী মাত্রায় ব্যাবহার করলে অথবা নিষিদ্ধ পয়জন ব্যবহার করলে ফসল এমন হতে পারে। তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই তাৎক্ষণিক ক্ষতিগ্রস্থ জমি পরিদর্শনের জন্য উক্ত এলাকায় লোক পাঠানোর ব্যাবস্থা করেন।

ক্ষতিগ্রস্থ মুনির জানান, তিনি ঠাকুরগাও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ঠাকুরগাও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মশিউর রহমান লিখিত অভিযোগ পাবার কথা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন :