অবহেলিত আদিবাসী মেয়েদের কাছে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে পিরিনা মুর্মু

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৪৪ AM, ১১ ডিসেম্বর ২০১৫

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : অবহেলি আদিবাসী মেয়েদের কাছে আজীবন দৃষ্টান্ত ও প্রেরণা হয়ে থাকবে পুলিশ সদস্য পিরিনা মূর্মূ’র জীবন কাহিনী। দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলাধীন ছোট একটি আদিবাসী গ্রাম ডারকামারীতে দারিদ্র সীমার মধ্যে বসবাস করত রাবণ মুর্মু ও লুগিনা সরেন পরিবার। এই দম্পতির ঘরে দুই সন্তানের পরে ১৯৯৬ সালে তৃতীয় সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ করে পিরিনা মুর্মু। এরপর আরও দুইটি সন্তান পরপর জন্ম নেয় রাবণ-লুগিনার ঘরে। অভাব অনটন ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। তাই কখনও অর্ধাহারে আবার কখনও অনাহারে থাকতে হত পিরিনা মুর্মু নামে মেয়েটিকে। পিরিনা লেখাপড়া শুরু করে ব্র্যাক স্কুলে একই সাথে খালিপপুর মিশন স্কুলে ভর্তি হয় যাতে করে দুপুরে খাবার খেতে পারে। প্রথম শ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করার জন্য বাড়িতে কোন বিদ্যুৎ ছিল না এবং কেরোসিন তেল কেনারও পয়সা ছিলনা তাদের। তাই বেশিরভাগ সময় দিনের আলোয় পড়াশোনা করতে হতো এবং মাঝে মাঝে কুপির আলোতে পড়াশোনা চালিয়ে যেত। পিরিনার ১০ বছর বয়সে তার বাবা মারা গেলে সংসারে আরও অভাব অনটন দেখা দেয়। এ জন্য সে মাঝে মাঝে পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে আবাদি জমিতে কাজ করতে যেত, পরিবারের দু’বেলা খাদ্যের জন্য পিরিনার এক ভাই ও এক বোন ৫ম শ্রেনীতে পড়ার সময় ঝড়ে পড়ে। কিন্তু পিরিনার লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকায় কোন ভাবেই লেখাপড়া থেকে তাকে আলাদা করা যায়নি। এরই ধারাবাহিকতায় সে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সাফল্যের সাথে জিপিএ ৩.৮৫ পেয়ে কৃতকার্য হয়। এমন সময় বে-সরকারী সংস্থা আরডিআরএস বাংলাদেশ প্রকল্পের সংলাপ কেন্দ্র চালু হলে উক্ত সংলাপ কেন্দ্রে পিরিনা মুর্মু কিশোরী হিসেবে ভর্তি হয়। এই প্রকল্পে কিশোরীদের জীবনের স্বপ্ন প্রতিষ্ঠিত এবং তাদেরকে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়ার প্রেরণা তৈরী করে। মনের মধ্যে অনেক বড় পুলিশ অফিসার হওয়ার স্বপ্নের বীজ লালিত হতে থাকে । এভাবেই চলতে থাকে পিরিনার জীবন। এরই এক পর্যায়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কিছু সংখ্যক নারী-পুরুষ নিয়োগ করা হবে এমন সংবাদ পেলে তার স্বপ্ন তাকে আরও বেগবান করে তোলে। বিজ্ঞপ্তি মোতাবেক পুলিশ লাইনে শারিরীক, লিখিত, মেডিকেল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে সফলতার সাথে কৃতকার্য হয়ে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হয়। সাফল্যের সহিত ট্রেনিং শেষে সে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যোগদান করে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার রেবেকা সুলতানা বলেন, ৯ডিসেম্বর পিরিনাকে আর্ন্তজাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস উদযাপনে “জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ” এর আওতায় শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্যে অর্জনকারী নারী হিসেবে ক্রেস্ট ও সম্মাননা প্রদাণ করা হয়।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :