অপারেশন টোয়াইলাইটে ৪ জঙ্গি নিহত; এখনো শেষ হয়নি অভিযান

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:৫২ AM, ২৮ মার্চ ২০১৭

সিলেট সংবাদদাতা : সিলেটের আতিয়া মহল থেকে ৪ জঙ্গির লাশ উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী। দু’টি লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরো দু’জনের লাশ এখনো সেখানে আছে। তাদের শরীরে সুসাইডাল ভেস্ট লাগানো রয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ। একজন নারী। তবে তাদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

সোমবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার পর সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল হাসান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তবে সেনাবাহিনী জানিয়েছে অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো শেষ হয়নি। ওই বাড়িতে ব্যাপক বিস্ফোরক মজুদ রয়েছে জানিয়ে ফখরুল আহসান বলেন, ‘কিছু প্রক্রিয়ার কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান সমাপ্তি ঘোষণা করা যাচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘ভেতর থেকে তারা এক্সপ্লোসিভ ফুটিয়েছে, গ্রেনেড চার্জ করেছে, গুলি করেছে। জঙ্গিরা সুইসাইডাল ভেস্ট পরা ছিল। পুরো বাড়ি কমান্ডোরা তল্লাশি করে দেখেছেন। প্রয়োজনে আরো তল্লাশি করা হবে।’

ফখরুল আহসান বলেন, ‘এখনই অভিযান শেষ করছি না।  ভেতর থেকে লাশ বের করা হয়েছে। চার জনের মধ্যে তিনজন পুরুষ, একজন নারী। তবে তারা কখন মারা গেছে, এর ঠিক সময় বলা কঠিন।’

পুরো ভবনটা যে অবস্থায় আছে সেটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে ফখরুল আহসান বলেন, ‘সেজন্য সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। যে চারজন এখানে ছিল, তারা বেশ ভালো প্রশিক্ষিত। তাদের খুঁজে বের করে মারা হয়েছে। এটা কিন্তু বিশেষ করে সেনাবাহিনীর জন্য একটা বড় সফলতা বলে মনে করি। আমাদের অভিযান এখনো চলমান আছে। আরো হয়তো কিছু সময় লাগতে পারে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা এগিয়ে যাব।’

এক প্রশ্নের জবাবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান বলেন, ‘নিহতরা কারা, এটা পুলিশ-র‌্যাব পরে বুঝতে পারবে। পুরো ভবন তল্লাশি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরো করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের এখান থেকে যখন সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে, তখন আমরা স্থানটা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করব।  নিহতদের মধ্যে শীর্ষ কোনো জঙ্গি আছে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। সেটা র‌্যাব বা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারবে। আমরা ভেতর থেকে ডেড বডি নিয়ে এসেছি। আস্তানা থেকে তারা কেউ বের হতে পারেনি। অপারেশন প্রক্রিয়ার মধ্যেই তারা নিহত হয়েছে। তবে, তারা কখন নিহত হয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে তার সময় বলা যাচ্ছে না।’

বিস্ফোরণের পর আগুন লেগেছিল বলে মনে হয়েছে। ধোঁয়া দেখা গেছে। এটা আসলে কী ধরনের বিস্ফোরণ ছিল?— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘সম্ভবত সুইসাইডাল ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল জঙ্গিরা। তারই একটি বড় শব্দ হয়েছে।’ আগুনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে গ্রেনেড চার্জ করা হয়েছে, ফায়ার করা হয়েছে। টিয়ার গ্যাস ফায়ার করেছি। এর ভেতরে বাসিন্দাদের ব্যবহৃত কাঁথা-বালিশসহ কাপড়চোপড় ছিল। সেজন্য ধোঁয়া দেখা যেতে পারে। আগুন লাগলে সেটা আরো বিপজ্জনক হতো। সেজন্য সঙ্গে-সঙ্গে আমরা নিভিয়ে ফেলেছি। পুরো ভবন আমরা মোটামুটি তল্লাশি করেছি। প্রয়োজন হলে আরো করব।’

জঙ্গিদের শক্তিমত্তার ধারণা সম্পর্কে জানতে চাইলে ফখরুল আহসান বলেন, ‘প্রথম দিনের ঘটনা। বাড়িটির কলাপসিবল গেটের সামনে একটি বড় বালতির মধ্যে বিস্ফোরক ছিল। ওটা যখন ডেটোনেট করেছে তখন পুরো কলাপসিবল গেটটা উড়ে এসে পাশের বিল্ডিংয়ে পড়েছে। ওখানে আমাদের তিন চারজন সদস্য ছিলেন, তারা ছিটকে গেছেন। পুরো বিল্ডিং কেঁপে উঠেছে। এ রকম এক্সপ্লোসিভ তো ভেতরে আরো থাকতে পারে।’

জঙ্গিদের সর্বশেষ প্রতিরোধ কেমন ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা এক্সপ্লোসিভ ফাটিয়েছে, গ্রেনেড চার্জ করেছে, স্মল আর্মস ব্যবহার করেছে। তাদের যা ছিল সব ব্যবহার করেছে। আমাদের কোনো সদস্য  আহত হয়নি, ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।’ এর আগে রবিবার সেনাবাহিনীর ব্রিফিংকালে দু’জন পুরুষ নিহতের খবর দেয়া হয়। এরপর সোমবার ব্রিফিংকালে একজন নারীসহ দু’জন নিহতের তথ্য জানানো হলো।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় ‘আতিয়া মহল’নামক বাড়ির নিচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে বলে জানতে পারে ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট। শুক্রবার (২৪ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে ওই বাড়ির ভেতর থেকে গ্রেনেড ছোড়া হয়। পরে ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াতকে পাঠানো হয় ঘটনাস্থলে। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সন্ধ্যা থেকে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণে নেয় সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো দল। পরদিন তারা ওই ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে আনে।২৫ মার্চ সন্ধ্যায় আতিয়া মহলের পাশে ২ দফা বিস্ফোরণে ২ পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত হন। আহত হয়েছেন র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধানসহ অন্তত ৫০ জন।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :