অজ্ঞাত রোগে ৫ জনের আকস্মিক মৃত্যু; তন্ত্র মন্ত্রের আতংকে গ্রাম ছাড়ছে অনেকে

tkeditortkeditor
  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৮ PM, ৩১ মার্চ ২০১৭

সাদ্দাম হোসেন,ঠাকুরগাঁও : অজ্ঞাত রোগে ৫ জনের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের ওরাঁও সম্প্রদায়ের ৫০টি আদিবাসী পরিবার তন্ত্র মন্ত্রের আতংকে ভুগছে। অনেকে প্রাণের ভয়ে পুজা অর্চনা করছে দেব-দেবীর। এলাকা ছেড়েছে কয়েকটি পরিবার।

ঐ গ্রামের নবম শ্রেণীর ছাত্রী লিজা তিগ্যা আকস্মিক ভাবে গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় গ্রাম বাসীদের মধ্যে আরও আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। লিজার বাবা সুনীল তিগ্যা জানায় স্থানীয় চিকিৎসকদের শরনাপন্ন হয়েও তার মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে পারেননি তিনি। পরিবারের ধারণা তান্ত্রিক শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে লিজার উপর।এ কারণে লিজা সুস্থ হচ্ছে না।

একই সুরে জানালেন গ্রামবাসী ক্ষুদিরাম। তিনি বলেন,গ্রামের মানুষের উপর জাদু টোনা করা হয়েছে। তাই ডাক্তারি চিকিৎসায় সুস্থ হচ্ছে না অ-সুস্থরা।

গ্রামের প্রবীণ সমারু ওরাঁও অভিযোগ করে বলেন,তাদের প্রতিবেশী বালু কুজুরের পরিবার তান্ত্রিক শক্তি ছড়িয়ে দিয়েছে এলাকায়। ফলে একের পর এক নারী-পুরুষ,শিশু-কিশোর হঠাৎ অসুস্থ হচ্ছে। কিছুদিন রোগ ভোগার পর তারা মারা যাচ্ছে। গ্রামবাসীরা কিনারা না পেয়ে দল বেঁধে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাহার গ্রামের গনক সুকুমার রায়ের বাড়িতে যায়।
ঐ গনক গ্রামবাসীদের জানায় তাদের গ্রামে তান্ত্রিক শক্তি ভর করেছে। এই শক্তি ছড়িয়ে দিয়েছে তাদেরই লোক। গনকের এই কথা শুনে বালু কুজুরের পরিবারকে সন্দেহ করে গ্রামবাসীরা।

পরে গ্রামবাসীরা জোট হয়ে বালু কুজুরের পরিবারের ওপর হামলা করে। এতে বালু কুজুর (৫৬) ও তার ছেলে রানা কুজুর (২৭) আহত হয়। 
বালু কুজুরের স্ত্রী সুমি টপ্য কেঁদে কেঁদে বলেন,গনকের কথা বিশ্বাস করে প্রতিবেশীরা আমাদেরকে এক ঘরা করে রেখেছে। এ ছাড়া গ্রামের মানুষ আমার স্বামী ও ছেলেকে মারপিট করেছে। এ ঘটনার পর সুমির ছেলে রানা কুজুর প্রাণের ভয়ে বাড়ি ছেড়েছে।

জানা গেছে,দোল উৎসবে ঐ গ্রামের নারী-পুরুষ ও ছেলে-মেয়ে হোলি খেলা খেলছিল। গ্রামের রানা কুজুর তার ভাগনী লিজা তিগ্যাকে রং মাখায়। এতে বিরক্ত হয়ে লিজা রানা কুজুরকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। দুঃখ পেয়ে রানা কুজুর লিজাকে অভিশাপ দেয়। এতে লিজা অসুস্থ হয়ে পড়ে বলে তার পরিবারের ধারণা। তাকে সুস্থ করতে কবিরাজ-মাহাত-ডাক্তার কিছুই বাদ রাখেনি তার পরিবার। তবুও লিজা সুস্থ হয়নি। এক পর্যায়ে লিজাকে সুস্থ করতে রানা কুজুরের বাড়িতে পাঠানো হয়। কিন্তু কোন ফল হয়নি। আরও গুরুতর অসুস্থ হয়েছে লিজা।

এতে গ্রাম বাসীদের ধারণা সৃষ্টি হয়েছে তান্ত্রিক শক্তির ভর হয়েছে তাদের গ্রামে। এ কারণে ঐ গ্রামের বালু কুজুরের পরিবারকে দায়ী করছে এলাকা বাসীরা।

এ বিষয়ে স্থানীয়(জগন্নাথপুর) ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলাল বলেন, তিনি ঐ গ্রামে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামকে ঘটনা প্রশমিত করতে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু গ্রামবাসীরা এখনও উত্তেজিত।

তন্ত্র মন্ত্র প্রসংগে ঠাকুরগাঁও সিভিল সার্জন ডা.আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবির বলেন,ঐ গ্রামের নৃ-গোষ্ঠী জনগণ এখনও কু-সংস্কারে আটকে আছে। তিনি গ্রামবাসীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিক্যাল টিম পাঠাতে চেয়েছেন ।

জেলার খবর

আপনার মতামত লিখুন :